করোনায় কেমন আছে ক্রীড়াঙ্গন ?

Share the post
 রোটা: আইনুল কবির জিতু(ক্রীড়াবিদ ও সামাজিক সংগঠক): ক্রীড়া হচ্ছে একটি সংগঠিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিনোদনধর্মী এবং দক্ষতাসূচক শারীরিক কার্যকলাপ প্রদর্শনের আধুনিক মাধ্যম ।এইবার আসি মূল কথায় যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমার প্রতিবেদন টা লেখা।প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস এর থাবায় আটকে গেছে পুরো বিশ্ব।খেলার মাঠেও নেমে এসেছে স্থবিরতা ।আন্তজার্তিক সব খেলা স্থগিত করেছে সে বহু আগে।কিছুদিন আগে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা এর টেস্ট সিরিজ ও ভেস্তে গেছে এই মহামারির কারনে। তবে কিছু কিছু ঘরোয়া ফুটবল,ক্রিকেট লীগ গুলো চলছে এবং কিছু ক্রিকেট লীগ ও আন্তজার্তিক ম্যাচ ইতি মধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে করোনা সুরক্ষা মেনে ।সামাজিক জীবনটা আমরা যেমন নিউ নরমাল লাইফে সাজাচ্ছি, তেমনি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও এভাবে মানিয়ে নেওয়া চেষ্টা করতে হবে। অনেকের আবার মানছে না সুরক্ষা বিধি,ক্রিকেট খেলায় বল সুইং করার জন্য মুখের লালা ব্যাবহার করছে যা সাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পরে,যে ভুলটা পাকিস্তানি পেসার আমির বারংবার করেছিলো এই দৃশ্যটা আমরা খেলায় লক্ষ্য করেছি । এইবার আসা যাক খেলাধুলা কি আদৌ দেশে পুরো দমে ফিরতে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্থবির হয়ে পড়া দেশের ক্রীড়াঙ্গন আবার সচল হতে যাচ্ছে। ১০টি শর্ত দিয়ে সীমিত পরিসরে খেলাধুলা ও অনুশীলন কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতেই দেশের সকল পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সীমিত আকারে খেলাধুলা আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আরোপিত শর্তাবলী-যা জানার জন্য তুলে ধরেছি।
১। খেলাধুলা শুরুর আগে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পূর্বে, মহামারি প্রতিরোধক সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, গ্লোভস, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্টাক্ট ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সংরক্ষণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তদারকি ও বাস্তবায়ন এর দায়িত্বের জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করলে ভাল হয়। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীদের স্বাস্থ্য বিধি প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। ২। সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। ৩। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে ক্যাম্প শু্রুর পূর্বে প্রয়োজনবোধে সবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা যেতে পারে। ৪। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণকালীন ক্যাম্পে অবস্থানের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে থাকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজার রেখে খাবার গ্রহণ ও খাবারের ব্যবহৃত থালা বাসন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে ডিসপোজেবল প্লেট ব্যবহার করাই ভাল। ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে হবে। খেলোয়াড়দের ঘুম, বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। ডিজিটাল/অনলাইনের মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। ৫। খেলা ও প্রশিক্ষণের সময় ব্যক্তিগত পানির বোতল ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত সরঞ্জাম এবং জামাকাপড় নিজস্ব ব্যাগে রাখতে হবে। টিস্যু, রুমাল বা অন্যান্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত পাত্রে (মুখবন্ধ ময়লার পাত্র) ফেলে দিতে হবে। ৬। অধিক জন সমাগম না করে সীমিত আকারে খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। মাঠে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় দর্শকদের সারিবদ্ধভাবে পরস্পর হতে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাঠে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট দূরত্ব (১মিটার) বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দুইজন দর্শকদের মাঝে এক সিট খালি রাখতে হবে। ৭। খেলার মাঠের প্রবেশ পথে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং বহিরাগত দর্শনার্থীদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যাদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪μ ফারেনহাইটের বেশি হলে তাদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। ৮। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক/কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন কোনো রোগী থাকলে তাৎক্ষিণকভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ৯। খেলার মাঠের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে। ১০। স্টেডিয়ামে আগত সকলকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বিলবোর্ড, রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে। এত কিছু মেনে যদি দেশের ক্রীড়াঙ্গন আবার প্রতিটা শহরে প্রতিটা জেলায় প্রতিটা আনাছে কানাচে ক্রীড়া মোদিরা মাঠ মাতাতে পারে।তাহলে ক্ষতি কি।পরিশেষে বার্লিন প্রবাসী কবি দাউদ হায়দারের ৪ টি লাইন দিয়ে শেষ করতে যাচ্ছি, বন্ধী জীবন কাকে বলে অজানা নয়, জেলে ছিলাম মাসের পর মাস একাকীত্ব প্রহার নিস্টুর শৃংখল যুগপৎ সন্ত্রাস আর বীভৎস ভাইরাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে গেলেন মাহমুদউল্লাহ, সর্বোচ্চ বেতন তাসকিনের

Share the post

Share the post ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সর্বোচ্চ বেতন মাসিক দশ লাখ টাকা পাবেন তাসকিন আহমেদ। চুক্তির মেয়াদ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ চুক্তিতে ২২ জন ক্রিকেটারের বেতন পাঁচটি গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়েছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে তাকে আর চুক্তিতে রাখছে না বিসিবি। […]

দুবাইকে হোম ভেন্যু বানিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ভারত

Share the post

Share the post চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত। তাই বাধ্য হয়ে হাইব্রিড মডেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন করতে হয়েছে পিসিবিকে। যেখানে ভারতের জন্য ভেন্যু নির্ধারণ করা হয় দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। আর এই ভেন্যুকেই ঘরের মাঠ বানিয়েছে ভারত। টানা পাঁচ ম্যাচ একই মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা, যে সুবিধা পায়নি আয়োজক পাকিস্তানও।     […]