মোঃ আমির হোসেন শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি: মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ঈশ্বরকাঠি গ্রামের জলিল চোকদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের জালকাঠি এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।
মেঝ ভাবি আছমা বেগমকে দুপুর ১২টার দিকে ফোন দিয়েছিলেন এবং তখন তিনি ভাবির কাছে ইলিশ খাওয়ার আবদারও করেছিলেন। গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরকাঠিতে নিহত কালামের মেঝ ভাবি আছমা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, “দুপুর ১২টার দিকে আবুল কালামের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছে। সে বলছিল- ‘দুই-এক দিনের মধ্যে বাড়িতে আসবে এবং আমি যেন ইলিশ মাছ কিনে রাখি।’ আমার ভাই আর এলো না…।”
রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের একটি পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়ে মারা যান তরুণ ব্যবসায়ী আবুল কালাম।
রবিবার দুপুরে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের ওপর থেকে বিয়ারিং প্যাড পড়ে যায় এবং তা আবুল কালামের মাথায় আঘাত হানে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল কালাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় একটি ট্র্যাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন।
স্বজনরা জানায়, তিনি ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ফার্মগেট এলাকায় যাতায়াত করতেন।
নিহত কালাম এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহর বয়স ৫ বছর এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তারের বয়স ৩ বছর।
নিহতের চাচাতো ভাই আব্দুল গণি চোকদার বলেন, “আবুল কালাম খুব পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। নিজের চেষ্টায় ঢাকায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন। এমন মৃত্যু আমাদের জন্য এক অসম্ভব বেদনার বিষয়। সরকারের অবহেলার কারণে আমার ভাই মারা গেল। এখন তার পরিবারে দায় দায়িত্ব কে নেবে?”
নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, “নিহত ব্যক্তির পরিবারের সব দায়-দায়িত্ব মেট্রোরেল গ্রহণ করবে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এরপর যদি পরিবারের মধ্যে কর্মক্ষম কোনো সদস্য থাকে, তাকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়া হবে।”

