অবৈধ বৈদ্যুতিক ইদুর মারার ফাঁদে মর্মান্তিক মৃত্যু: মায়ের সামনেই প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রের!
সাদেকুর রহমান, বরগুনা: বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় ভাইজোড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মায়ের চোখের সামনেই বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে প্রাণ হারাল এক স্কুলছাত্র। ছাগলের জন্য ঘাস আনতে গিয়ে অবৈধভাবে পাতা ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, আজ বুধবার (২৯ শে অক্টোবর তারিখে) ভোরবেলায় তালতলীর বড় ভাইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা ইমরান নামে এক স্কুল ছাত্র তার মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে গিয়েছিল ছাগলের জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ধানক্ষেতের মালিক আবু সালেহ নামে এক ব্যক্তি তার ফসলের সুরক্ষার জন্য ক্ষেতে অবৈধ বৈদ্যুতিক ইঁদুর দমন ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। পাশেই একটি মসজিদ থেকে তিনি অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বিপজ্জনক এই ফাঁদের আশেপাশে কোনো প্রকার সতর্কতা বা সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শী মা জানিয়েছেন, ঘাস কাটার সময় অসাবধানতাবশত শিশু ইমরান সেই বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং মায়ের চোখের সামনেই ছটফট করতে করতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইমরানের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি বুঝতেই পারিনি ওখানে বিদ্যুৎ ছিল। চোখের সামনেই আমার ছেলেটা চলে গেল। যারা এভাবে অবৈধভাবে ফাঁদ পেতেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষিক্ষেতে এভাবে অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চরম বিপজ্জনক। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় প্রায়শই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু সালেহ পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তালতলী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মসজিদের সংযোগ ব্যবহার করে ধানক্ষেতে বিদ্যুৎ নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ নিহত স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে । এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে। এই শোকাবহ ঘটনা বড় ভাইজোড়া গ্রামে নেমে এনেছে শোকের ছায়া এবং অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

