জলিলুর রহমান জনি সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে যমুনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে এই ড্রেজিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
যমুনা নদী দ্বারা বিভক্ত কাজিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নদীর ওপারে চরে অবস্থিত। প্রতি বছর শীত মৌসুমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় চার মাস এসব ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নদীপথই একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় নৌকা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় নৌকা চরে আটকে গিয়ে যাত্রী ও মাঝিদের দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়।
এ বছরও শীত মৌসুমের শুরুতে নদীর নাব্যতা সংকট নিয়ে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। সাধারণত নদী ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এর মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করতে হয়। বিগত বছরগুলোতে নানা জটিলতার কারণে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চরাঞ্চলে পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে তিনি চরের মানুষের যোগাযোগ সমস্যাটি আগে থেকেই গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। শীত মৌসুমের শুরু থেকেই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করেন। পাশাপাশি চরবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যান।
এরই ধারাবাহিকতায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবশেষে শুক্রবার সকাল থেকে যমুনা নদীর গুরুত্বপূর্ণ অংশে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়।
ড্রেজিং কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আর্মির কাজিপুর ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আসফাক ও ক্যাপ্টেন গালিবসহ তাদের টিম এবং বিআইডাব্লিউটিএ’র সাইট ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ ও মামুনসহ ড্রেজিং টিমের সদস্যরা।
ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেকটাই সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

