পুরাদিয়া-বনকানন সড়ক চলার পথ যেন কষ্টের কাঁটায় ভরা..

Share the post
ফয়সাল আলম সাগর, বিশেষ প্রতিনিধি’: এক সময় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতেন গ্রামের মানুষজন হাঁসি মুখে। স্কুলে যেতো শত শত শিক্ষার্থী। ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে বাজারে পৌঁছাতেন ঠিক সময়ে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে সড়কটির চেহারা ইট নেই, মাটি নেই, আছে শুধু খানাখন্দ আর কাদায় ভরা দুর্ভোগের গল্প।
কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পুরাদিয়া -বনকানন সড়কটি  এখন যেন একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে অবহেলার, কষ্টের এবং অব্যবস্থাপনার। এই একটি মাত্র সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে পুরাদিয়া, ছনখোলার জুম, মৌলভী হাসানের জুম,গর্জনিয়া পাড়া, বড়পাড় ও বনকানন বাজারসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ। এছাড়াও ৩, ৪, ৫ ও ৭নং ওয়ার্ডের ১০ হাজারের বেশি লোক এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল।
বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক যেন রূপ নেয় জলকাদার এক সমুদ্রে। চলাচল একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্কুলগামী তিন শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই দুর্ভোগ বয়ে বেড়ায়।
এই সড়ক দিয়েই চলাচল করে আহলিয়া ইসলামীয়া বালিকা মাদরাসা, টইটং আরবীয়া জামেউল উলুম মাদরাসা, টইটং উচ্চ বিদ্যালয়, ইকরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আল হেরা মডেল একাডেমি এবং টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৭ জুন)  দুপুরে এলাকাবাসী আর পারলেন না তারা রাস্তায় নেমে এলেন মানববন্ধনে। স্লোগান নয়, তাদের মুখে ছিলো অভিযোগ আর কষ্টের কথা। তারা জানালেন, এই দুর্দশার চিত্র স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পুরাদিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আতাউল করিম, সিরাতুল মুস্তাকিম ফাউন্ডেশন এর সভাপতি
মাওলানা রহিম উল্লাহ, মুখ্যপাত্র
মাওলানা এরশাদ কামাল,
শিক্ষক রহমত উল্লাহ, শের-এ বাংলা মেডিকেল কলেজ এর
শিক্ষার্থী এম সায়েম খান, জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিজবাহ উদ্দিন আসিফ, আব্দুল তুহিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এ সড়কটি টইটংয়ের খুবই গুরুত্বপুর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে এ সড়কটি অবহেলিত। প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। গত ২০ বছর ধরে সংস্কার হচ্ছেনা। সড়ক সংস্কার এটা আমাদের যুক্তিক দাবি। রাস্তায় নেমে মানববন্ধনে সামিল হয়েছি। কর্তৃপক্ষকে বিনয়ের সহিত আহবান করছি আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘব করতে যেন দ্রুত সময়ে সড়কটি সংস্কার করা হয়।
পুরাদিয়ার বাসিন্দা মনজুর আলম বলেন, পুরাদিয়া থেকে হাজিবাজার হেঁটে গেলে লাগে ১০ মিনিট, কিন্তু রাস্তার কারণে ঘুরে বনকানন হয়ে যেতে লাগে ১ ঘণ্টা!
আরেক বাসিন্দা মনির আহমদ জানান, ১০ বছর আগে রাস্তার কিছু অংশে ইট ছিল। এখন কিছুই নেই। কাদা আর গর্তে পা মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাফেরা করি।
ইউপি সদস্য আবু ওমর জানান,
সড়ক খানাখন্দে ভরপুর। বর্ষায় হাঁটা তো দূরের কথা, রোগী নেওয়ার মত গাড়িও চলেনা। এই সড়কের উন্নয়ন ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
এলাকাবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধনে অংশ নেয় সিরাতুল মুস্তাকিম ফাউন্ডেশন, মরহুম ডাঃ ইউসুফ মানবসেবা ফাউন্ডেশন, সিরাতুল মুস্তাকিম আত-তাওহীদ সংগঠন ও উদ্দীপ্ত তরুণ সংঘসহ নানা সামাজিক সংগঠন।
সড়ক শুধু ইট-মাটির বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রার অংশ। পুরাদিয়া–বনকানন সড়ক যেন আর দুর্ভোগের নাম না হয় এটাই এখন স্থানীয়দের একমাত্র চাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঙালীয়ানায় পিঠাপুলি উৎসবের আয়োজন…

Share the post

Share the postমীর কাশেম আজাদ, কক্সবাজার: কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া সমাজের এক সময়কার সুবিধাবঞ্চিত-বিপন্ন-ঝুঁকিতে থাকা-পথ শিশুদের নিয়ে শিশু বরণ, দেয়ালিকা উন্মোচন, পিঠাপুলি উৎসব, বই বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, তাঁবু জলসা এবং বিশেষ নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি রোজ সোমবার বিকাল ৪:০০ টায় কেন্দ্র  প্রাঙ্গণে […]

কক্সবাজার সদরে দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

Share the post

Share the postমীর কাশেম আজাদ, কক্সবাজার :কক্সবাজার সদর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে চার শতাধিক শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শীতের তীব্রতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে কক্সবাজার সদর আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে রামু সেনানিবাসের ১০ পদাতিক ডিভিশনের ২ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ৯ইষ্ট বেঙ্গল […]