সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা : ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে নেত্রকোনা পৌর শহরের সড়কগুলোতে। প্রতিদিন দিনে ও রাতে বসে ভ্রাম্যমাণ বাজার। এজন্য সড়কে চলতে পৌরবাসীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত এখন হকারদের দখলে। পথচারীদের অনেকক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে হাঁটতে হয় মূল সড়ক দিয়ে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চলে। উচ্ছেদ হয় কিছু দোকানপাট। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই ফুটপাত আবারও দখলে চলে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেত্রকোনা শহরের মাছুয়া বাজার থেকে শুরু করে মোক্তারপাড়া পর্যন্ত দুই পাশের ফুটপাতে ভাসমান দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এতে সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে । আবার বেশির ভাগ হকার ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের কথা সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফুটপাতে দোকান লাগালে দিতে হয় চাঁদা দোকান প্রতি ৫০ থেকে সর্বনিম্ন ২০ টাকা করে । এই ফুটপাতের বাজারে থাকছে ফলমূল, চটপটি, হালিম, চানাচুর, তৈজসপত্র, শাকসবজি ফুটপাতে পথচারী হাঁটার জায়গায় একের পর এক অবৈধ অস্থায়ী দোকান। কোনোটি খেজুরের দোকান, কোনোটি চায়ের দোকান, আবার কোনোটি সিগারেট বা ভাজাপোড়া বিক্রির। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে দোকান চলে গেছে সড়কে। বাধ্য হয়ে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে হাঁটতে হয় সড়ক দিয়ে দেখার মতো কেউ নেই।
নেত্রকোনা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা সুলতানা আক্তার ও মমতাজ বেগম বলেন, দিন দিন নেত্রকোনা শহরের প্রধান রাস্তাটি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাছাড়া ফুটপাতে অবৈধ ভাসমান দোকান থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, তাতে করে এখান দিয়ে হাটায় মুশকিল।তাই পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ অভিযান চালিয়ে এগুলো বন্ধ করা হোক।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা জেসমিন আক্তার ও হাবিবুর রহমান বলেন, শহরের ফুটপাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই এই অবস্থা। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। দিন দিন ফুটপাত দখল করে চলছে দোকানপাট।এখনই যদি এগুলো বন্ধ না হয়,তাহলে ভবিষ্যতে নেত্রকোনা শহরের ফুটপাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।
এতে করে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ দীর্ঘ জ্যামে পড়ে থাকতে হয় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা যাওয়া এবং আসা ছাত্র-ছাত্রী এমন কি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ পথচারীদের।পুরো নেত্রকোনা শহর জুড়ে মনে হচ্ছে একটি জ্যামের শহর।
পৌর শহরের তেরীবাজার, মাছুয়া বাজার ও মোক্তারপাড়া থেকে শুরু করে এদিকে চক মসজিদ পর্যন্ত দু’পাশে তাকালে মনে হয় হকার ভাসমান ব্যবসায়ীদের রাজত্ব পুরো শহর জুড়ে। মাঝেমধ্যে তাকালে দেখা যায় অহেতুক জ্যাম লেগেই আছে।
এবিষয়ে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর থেকে ভাসমান দোকান ও অবৈধ অবকাঠামো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যতই বাধা আসুক, অভিযান চলবে। যদি কেউ এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

