ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’ এখন ঝালকাঠি সুগন্ধা নদীর তীরে

Share the post

মোঃ সাগর হাওলাদার ঝালকাঠি প্রতিনিধি: “সুন্দর ভূবণে নেই যার চোখের আলো,সুখে দুঃখে আঁখি ছল ছল,মনেরই আশা চোখেরই জলে বরষার মত ঝড়ে যায়” মর্মস্পর্সী এ গানের কথার মতই স্বপ্নীল পৃথীবির সৌন্দর্য অবলোকন করার সাধ্য নেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের। তাদের মনের আশা গুলো নিরাশাই থেকে যায় পৃথীবির বুকে! আর তাদের দুঃখ দূর করতেই অন্ধের জীবনের আলো ফিরিয়ে আনতে পরিহার যোগ্য প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের লক্ষে মানবতার সেবায় ২১ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ‘জীবনতরী’ নামের ভাসমান হাসপাতাল। বর্তমানে এ হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে আনতে,তাদের সেবা দিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা দুইতলা বিশিষ্ট ‘জীবনতরী’ হাসপাতালটি ঝালকাঠি নদীর ঘাটে ভিড়েছে।অন্যান্য হাসপাতালের মতো ভাসমান এ হাসপাতালেও রয়েছে রিসিপশন, ডাক্তার চেম্বার, দুটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের বেড, অফিস কক্ষসহ সবকিছু। এছাড়া জরুরি রোগী আনা-নেওয়ার জন্য ভাসমান এ হাসপাতালে বাঁধা রয়েছে ২টি স্পিডবোড, নদীর পাড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সও রাখা হয়েছে। ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’ এখন ঝালকাঠি শহর বিধৌত সুগন্ধা নদীর তীরে ডিসি পার্কের সাথে অবস্থান নিয়েছে। ঝালকাঠি পৌর এলাকার বাসিন্দাদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষে কাজ করবে বলে জানা গেছে।

১২ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি বিভিন্ন এলাকার দুস্থ-অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে মানসম্মত চিকিৎসা প্রদান করবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পরিচালনাধীন হাসপাতালটি ঝালকাঠির ডিসি পার্কের সুগন্ধা নদীর তীরে নোঙর ফেলেছে সোমবার সকালে। নদী মাতৃক বাংলাদেশে ‘জীবন তরী’ নামে এই ভাসমান হাসপাতালটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে সারা বছর চিকিৎসা প্রদান করে থাকে। আগামী ৭ মার্চ থেকে ‘জীবন তরী’ দিয়ে ঝালকাঠিতে চিকিৎসা সেবা শুরু করবে। ‘জীবন তরী’ নামে ভাসমান এই হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের জন্য তিন জন চিকিৎসক দিয়ে নাক, কান, গলা, চক্ষু চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ সার্জন দিয়ে অস্ত্রোপচার করারও ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ‘জীবন তরী’ হাড়জোড়া, হাড়ভাঙা, পঙ্গুত্ব, জন্মগত ঠোঁটকাটা, ঠোঁটের তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসাসহ প্লাস্টিক সার্জারি ও অন্যান্য চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে জানাগেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১২ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে সার্বক্ষনিক ৩জন চিকিৎসক রয়েছে। এরমধ্যে একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, একজন চোখের, একজন অর্থোপেডিকসের।

চারজন নার্স, দুজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জন জনবল আছে হাসপাতালে। মুমূর্ষু রোগীদের জরুরী ভিত্তিতে আনা-নেয়া বা হস্তান্তরের জন্য স্পিডবোট আছে দুটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, এখানে নিয়মিত এক্স-রে, রক্তসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে। হাসপাতালটিতে স্বল্পমূল্যে চক্ষু রোগের চিকিৎসা করা হয়। লেন্স সংযোজনের মাধ্যমে চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। ভাসমান হাসপাতালে ফ্যাকো সার্জারিরও ব্যবস্থা আছে। চিকিৎসা ছাড়াও রোগীদের সহায়ক সামগ্রী দেয়া হয়। প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন মোবাইল নাম্বার: ০১৭৮৭৬৭২৩২৩,০১৭১৫৩৪৯৯৪০। পরিচালনায় : ইস্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (আ,এফ,বি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Releated

মাগুরার শ্রীপুরে সাচিলাপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

Share the post

Share the postজিল্লুর রহমান সাগর,মাগুরা প্রতিনিধি:মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাচিলাপুর বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজারের একটি বড় ইলেকট্রনিক্স ও স্যানিটারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাচিলাপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: […]

ববি মেডিকেল সেন্টারের ভুল চিকিৎসায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী

Share the post

Share the postববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাসেবা নিয়ে অবহেলা ও ভুল ড্রেসিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন এক শিক্ষার্থী। তার দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসায় অবহেলার কারণে পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে দুই দফা অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ […]