মনিরুল ইসলাম পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক পোস্ট ও প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ক্যাম্পাসে সবধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছেড়ে গেলে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, অতীতে ছাত্রলীগের সময় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারা চান না, আবারও কোনো সংগঠন ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি বা প্রভাব বিস্তার করুক। শিক্ষার্থীদের দাবি— ক্যাম্পাস হবে সম্পূর্ণ রাজনীতি মুক্ত, যেখানে কেউ কোনো সংগঠনের অনুসারী হিসেবে নয়, বরং স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারবে।
তারা আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ চাই। ফেসবুকে যদি রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়, সেটাও ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা আনতে পারে।”
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো না যায়— সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, ‘নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কায়দার রাজনীতি থেকে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম ক্যাম্পাস গুলোতে আবারো দলীয় ছাত্র রাজনীতি চালু হলে পূর্বের সেই অশান্ত পরিবেশ ফিরে আসতে পারে সেজন্য আমরা জুলাই আন্দোলনের পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন প্রশাসনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি শিক্ষক কর্মকর্তাদের রাজনীতি বন্ধ রাখতে আবেদন করেছিলাম। আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষক কর্মকর্তাদের সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়। কিন্তু আমরা বর্তমানে দেখতে পাই ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বেশ কিছু সংগঠন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্যাম্পাসের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক চর্চা করে যাচ্ছে, এমনকি ক্যাম্পাসের ভিতরেই তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। ‘
তিনি আরও জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন কিছু করছে না বরং আমাদের মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভিন্নভাবে তাঁদের সহায়তা করছে। উল্লেখিত কারণ গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা খুবই উদ্বিগ্ন আছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। সুতরাং প্রশাসনকে অবিলম্বে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, ৫ই আগস্টের পর আমাদের ক্যাম্পাস হয়েছে রাজনীতি মুক্ত। কিন্তু সম্প্রতি কিছু মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে আবার ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আইনবহির্ভূত। ক্যাম্পাস জ্ঞান ও গবেষণার স্থান, রাজনীতির নয়—সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনোই রাজনীতি পুনরায় চালুর পক্ষে থাকবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘রাজনীতি সবাই করতে পারবে, এটা সবার সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ক্যাম্পাসে যেহেতু রাজনীতি বন্ধ আছে তাই দলীয় ব্যানারে কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ড করা নিন্দনীয়। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাজনীতি বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ব্যবহার করে রাজনীতি করার নিষেধাজ্ঞা আছে তাই আমি আমি রাজনৈতিকদলগুলোকে একাধিকবার বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। কিন্তু ওরা কথা রাখছেনা, এটা দুঃখজনক।’

