মোল্লা মো: আরিফুল ইসলাম নাটোর প্রতিনিধি:নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় “আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প”-এর আওতায় দুই দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ সভাকক্ষে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ বুধবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে কৃষকদের দক্ষ করে তুলতেই এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া বাঁশিলা গ্রামের কৃষক প্রসেনজিৎ মৈত্রী বলেন, “আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন, রোগবালাই দমন ও সার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছি। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে বলে আশা করছি।”
ব্রহ্মপুর এলাকার কৃষাণী চামেলী রানী জানান, “আগে অনেক কিছুই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করতাম। এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।”
এর আগেও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কাশিয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক সুমন সরকার বলেন, “নতুন জাতের বীজ, সঠিক সেচ ব্যবস্থা ও কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি।”
লক্ষীপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মাসুদ রানা বলেন, “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা সচেতন হলে ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সবুজ আলীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) শামসুন নাহার ভুঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কল্যাণ প্রসাদ পাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সম্প্রচার অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসাইন,
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ আহসান হাবীব, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার রঞ্জিত সিংহ, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুলদৌলা খোকনসহকৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সময়ে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। সরকার কৃষকদের পাশে আছে এবং এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সবুজ আলী বলেন, “কৃষকদের মাঠপর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। প্রশিক্ষণের জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করলেই এর সুফল মিলবে।”
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, মাটি পরীক্ষা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
কৃষকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত হলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং নলডাঙ্গা উপজেলায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

