১৪ বছরে ৬১ অসহায় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন রুহুল আমিন

Share the post
ভূপেন হাজারিকার সেই গান ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভ‚তি কি মানুষ পেতে পারে না’ এর যথার্থতা প্রমাণ করেছেন একজন মানবিক মানুষ রুহুল আমিন রুবেল।
তিনি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেন সরকারের ছেলে। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা জনপ্রতিনিধি নন, তিনি এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। অথচ মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা আর ভালো কাজের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন একজন আলোকিত মানুষ। গরিব-দুঃখীদের মুখে হাসি ফোটানোই তার স্বপ্ন।
গত ১৪ বছরে অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের অন্তত ৬১ জন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি নিজে। ধনী কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের আর পাঁচটা মেয়ের যেভাবে ধুমধামে বিয়ে হয়, ঠিক সেইভাবে নিজ খরচে এসব অসহায় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে থাকেন রুহুল আমিন।
শুধু বিয়ে দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ নয়, বিয়ের পর ওইসব দম্পতিকে নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতাও করে থাকেন। এছাড়া প্রতি শুক্রবার গরিব অসহায়দের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের খাবার, পোশাক, নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তাই একটু ভালো খাবারের আশায় শুক্রবারের জন্য অপেক্ষায় থাকেন এলাকার গরিব অসহায় মানুষ। সেই খাবার হাসিমুখে তুলে দেন তিনি। এমনকি গরিব ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগান দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ান।
আর্থিকভাবে ততটা সচ্ছল নন রুহুল আমিন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি আর নিজের গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি এমন জনহিতকর কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তিনি নিজ এলাকায় বিএম মোবাইল হাউস, বিএম লেডিস কর্নার নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, নাফিজা (১৮) নামে এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন করেছেন তিনি। নাফিজা রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার শ্যামপুর নগরবাড়ী এলাকার দিনমজুর আব্দুল খালেকের মেয়ে। সচ্ছল পরিবারের মেয়েদের যেমন ধুমধামে বিয়ে দেওয়া হয়, ঠিক তেমনভাবেই নাফিজা খাতুনের বিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রুহুল আমীন রুবেল জানান, পড়াশোনা শেষ করার পর কোনো চাকরির চেষ্টা করেননি তিনি। ব্যবসার প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি নিজ এলাকার গরিব অসহায় মানুষের যেন সেবা করতে পারেন সেজন্য এলাকার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। পড়াশোনা শেষ করে একটি হার্ডওয়্যার ও ওষুধের দোকান করেন। সেখানকার আয় দিয়ে সংসার চালিয়েছেন এবং গরিব অসহায়দের সাহায্য করেছেন।
বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী জানান, নিঃস্বার্থভাবে রুহুল আমিন যেভাবে দরিদ্র মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এটা সত্যিই প্রশংসার। তার মতো এভাবে যদি সমাজের বিত্তশালীরা মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসেন তাহলেই দেশটা সোনার বাংলা হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated

চকরিয়া যুবলীগের সভাপতি ও তার ছোট ভাইকে মামলায় দেওয়ায় মানববন্ধন

Share the post

Share the postফয়সাল আলম সাগর,বিশেষ প্রতিনিধি : তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতিকে মামলায় দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। সেই মামলা থেকে রক্ষা পায়নি দীর্ঘদিন ধরে মরনব্যাধী রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বাড়িত পড়ে থাকা তার এক সহোদরও। কোন তদন্ত ছাড়াই চকরিয়া থানার ওসি প্রতিপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে এ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছেন বলে অভিযোগ […]

এবার সিরিয়া থেকে ইসরায়েলে হামলা

Share the post

Share the post প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:০৪ আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:১৩ লেবাননের পর এবার প্রতিবেশী সিরিয়া থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে রকেট হামলা করা হয়েছে। এই হামলার জবাবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সিরিয়া সীমান্তের ভেতরে কামান ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করেছে। সিরিয়া থেকে ছোড়া গোলা ইসরায়েলি ভূখণ্ডের উন্মুক্ত স্থানে আঘাত হানার তথ্য স্বীকার […]