লিসবনে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২’ উদযাপন

Share the post

 নিজস্ব সংবাদদাতা ।। হাসান কোরাইশী, লিসবন, পর্তুগাল

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখরতার সাথে বাংলাদেশের ৫১ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস । এ উপলক্ষ্যে ২৮ মার্চ ২০২২ তারিখ সন্ধ্যায় একটি অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেল (হোটেল মিরাজেম কাসকায়েস)-এ দূতাবাস এক অভ্যর্থনার আয়োজন করে। অভ্যর্থনা হলের প্রবেশদ্বারের নিকটে হোটেলের এট্রিয়ামে বাংলাদেশের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দৃশ্য সম্বলিত ‘Beautiful Bangladesh’ শিরোনামের একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে দূতাবাস।

অভ্যর্থনা হলটি ফুল আর রঙিন ব্যানারে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান ও তাঁর সহধর্মিনী এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সস্ত্রীক, আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান। পর্তুগালে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক মিশনের প্রধান, পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ শুভার্থী ব্যক্তিবর্গ এবং পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নেতৃস্থানীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ ও পর্তুগালের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের চরম আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস আমাদের কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের বছরটি সম্পন্ন করতে যাচ্ছি।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল্যবোধকে অনুসরণ করেই বাংলাদেশ জনকেন্দ্রিক উন্নয়নে ঈষর্ণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিগত এক দশকের অধিক সময় ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখে বিশ্বের ৪২তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি সংস্কৃতি, মাতৃভাষার অধিকার, ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অধিকার সহ নানা বৈশ্বিক বিষয়ে সক্রিয় প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক দশ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দানের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত করেছে। বাংলাদেশের সাফল্য আর অর্জনসমূহ, স্বাধীনতার এই উদযাপনকে আরো অর্থবহ করে তুলেছে বলেও রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন। এরপর আয়োজিত এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিকপর্ব, অনুষ্ঠানে একটি আকর্ষণীয় মাত্রা যোগ করে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের যুদ্ধকালীন গানের সুরে স্থানীয় বাংলাদেশি শিল্পীর উদ্দীপ্ত নৃত্য পরিবেশনা সবাইকে বিমোহিত করে। সাংস্কৃতিক পর্বের পরে, অভ্যর্থনায় আগত অতিথিদেরকে বাংলাদেশী ও পর্তুগীজ ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়িত করা হয় । বাংলাদেশী দেশাত্মবোধক যন্ত্রসংগীতের আবহে অতিথিরা খাবার, বিশেষ করে বাংলাদেশের মিষ্টান্ন, উপভোগ করেন। করোনা মহামারীর কারণে দুই বছর ব্যবধানের পর স্বাধীনতা দিবস অভ্যর্থনার এই আয়োজন অতিথিদের প্রশ্ংসা কুড়িয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের চমৎকার দৃশ্য সম্বলিত অভ্যর্থনা হলটি আমন্ত্রিত অতিথিদের একটি মনোমুগ্ধকর মিলনমেলায় পরিণত হয়। অভ্যর্থনার পুরো আয়োজনটি লিসবনে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তির প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে, অতিথিগণ অভিমত ব্যক্ত করেন। এর আগে, গত শনিবার (২৬ মার্চ ২০২২ তারিখে) দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated