ভোটে ৬ জন নিহতের দায় প্রার্থী ও সমর্থকদের – ইসি সচিব

Share the post
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হতাহত, কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ধাপে ভোট চলাকালে সহিংসতায় ছয়জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি।সিলেটের জকিগঞ্জের কাজলশায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার গাড়িতে কয়েকশ সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ওই ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনে রাজধানীর অদূরে সাভারের দুটি কেন্দ্র ঘুরে অনিয়ম পেয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
সহিংসতায় ছয়জন মারা গেলেও নির্বাচন ভালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। নিহতের ঘটনায় দায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বলেও দাবি করেন তিনি।ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফি করেন ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। সচিব বলেন, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে রিপোর্ট পেয়েছি তাতে এ ধাপে ৭০ ভাগের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। নির্বাচনে মারা যাওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক, বেদনাদায়ক ও কাঙ্ক্ষিত নয়।
জানা গেছে, ইসির নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী পাঁচ ধাপে সহিংসতায় মারা গেছেন ৮১ জন। ভোটগ্রহণের আগ পর্যন্ত পাঁচ ধাপে মারা গেছেন ৭৫ জন। বুধবার ভোটের দিন মারা গেছেন ছয়জন। এদিন সহিংসতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অন্তত দেড়শ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। আটক হয়েছেন ২৮ জন।
ভোটগ্রহণ চালাকালে সহিংসতায় ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে ইসির সচিব জানান, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় দুই প্রার্থীর ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়ার মধ্যে পড়ে আমেনা খাতুন (৫০) নামে এক নারী নিহত হন। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ভোট দিয়ে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে বাড়ি ফেরার পথে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অংকুর দাস (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। বগুড়ার গাবতলীর রামেশ্বপুরে জাকির হোসেন নামের একজন, গাইবান্ধার সাঘাটায় জুমারবাড়ী ইউনিয়নে আবু তাহের এবং চাঁদপুরের কাচুয়া ও হাইমচরে দুইজন মারা গেছেন। তিনি বলেন, সবাই ভোট কেন্দ্রের বাইরে নির্বাচনী সহিংসতায় মারা গেছেন।
এই ছয়জন মারা যাওয়ার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে বাইরে দুই প্রার্থীর সংঘর্ষে তারা মারা গেছেন। এই কয়টি কেন্দ্র ছাড়া পুরো দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে।’ তাদের মৃত্যুর দায় কার- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা এর দায় নেবেন। আমরা বলছি না এটির জন্য নির্বাচন কমিশনের দায় না। তবে দায় যাবে প্রার্থী ও তার সমর্থকের ওপর। আমরা মনে করি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা প্রার্থীদের অনুরোধ জানাব, জয়ী বা পরাজিত হলে ফলাফল যেন মেনে নেন। তারা যেন অতি আবেগী না হয়ে যান। এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
এ ধাপের নির্বাচন মডেল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে বলব, ভালো নির্বাচন হয়েছে। সামনে যে নির্বাচন হবে সেটি আরও ভালো হবে।’
সচিব জানান, এ পর্যন্ত ৩০৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হয়েছে। তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে চার হাজার ১৩৮টির। মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে চার হাজার ৫৭৪টি। ৪৩৬টি ইউনিয়নে সীমানা নির্ধারণ ও মামলা থাকায় সেগুলোতে নির্বাচন করা যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated