বরিশালের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি

Share the post


নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল: বরিশাল জেলার সদর উপজেলার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতায় “ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি”র ২০১৩ জন দক্ষতা সম্পন্ন যুব ও যুব মহিলা ন্যাশনাল কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে প্রথমে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় হতাশা নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় প্রহর গুনছেন তার। মেয়াদ ও ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান করেও আশ্বাস ছাড়া পূরণ হচ্ছেনা তাদের প্রাণের দাবি। বরিশালের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীরা বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে তাদের মেয়াদ ও ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি অবহিত করেছেন। এছাড়া তৎকালীন সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি উত্থাপন করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন “ন্যাশনাল সার্ভিস” প্রকল্পের কর্মীরা। তথ্যানুসারে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির বরিশাল জেলার সদর উপজেলার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আওতায় ৩ মাসের মৌলিক ও বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে প্রতিষ্ঠানের স্মারক নং- ৩৪.০১.০৬৫১.০০০.৩৭.০৩০.১৭-১৫০ তারিখ: ৩০-১১-২০১৭, স্মারক নং- ৩৪.০১.০৬৫১.০০০.৩৭.০৩০.১৭-৩৭, তারিখ: ২৮-০২-২০১৮ স্মারক নং-৩৪.০১.০৬৫১.০০০.৩৭.০৩০.১৭-১০২ তারিখ: ৩১-০৫-২০১৮খ্রিঃ আদেশ অনুসারে সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং হাসপাতালে আগত রোগীদের পরামর্শ, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ২ বছর মেয়াদী অস্থায়ী ভিত্তিতে ২শত টাকা হারে মাসে ৬ হাজার টাকা বেতন ভাতা হিসেবে যাচাই বাছাই এবং সার্টিফিকেট জমা প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় কর্মীদের। উল্লিখিত বেতন ভাতার মধ্যে আবার ২ হাজার টাকা সঞ্চয় হিসেবে রাখা হয়। এই সামান্য ভাতা বর্তমান ঊর্ধ্বগতির বাজারে অত্যন্ত অপ্রতুল। এই অপ্রতুলতার মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলায় দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেবাসহ সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করছেন। এবং পিছিয়ে পড়া জনগণের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব উদ্যোগে “ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি” সফল করতে কর্মীরা অন্যান্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিরলসভাবে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে তাদের ন্যায় কাজ করে যাচ্ছেন। এবং তাদেরই ন্যায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা কার্য সম্পদান করে সমান ভূমিকা রেখেছেন। দেশের উন্নয়নে কর্মীদের ক্ষণিকের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা তাদের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। সংযুক্তির ক্রমানুসারে গত বছরের ৩০ নভেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রথম ব্যাচের কর্মীরা আবারো বেকার হয়ে পড়েছেন। এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে ২য় ব্যাচ ও এপ্রিল মাসে ৩য় ব্যাচের ন্যাশনাল সার্ভিসের ২০১৩ জন কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়বেন। ফলে মূল্যহীন হয়ে যাবে তাদের ৩ মাসের প্রশিক্ষণ ও ২ বছরের কর্মদক্ষতা। সেক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত “ভিশন ২০২১/ ২০৪১” বাস্তবায়নে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের পুনরায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তারা। এমনটা মনে করছেন দেশের সচেতন নাগরিকরা। ন্যাশনাল সার্ভিসের বরিশাল উপজেলা কার্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত সাহারা আক্তার বলেন, বরিশালের জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের বেকারত্ব থেকে মুক্তি লাভের জন্য “ন্যাশনাল সার্ভিস” প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয় উপজেলা যুব কর্মকর্তা আবদুল রহমান সন্যামত বলেন, এই প্রকল্পে যাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং সামনে যাদের শেষ হবে তাদের মেয়াদ পরবর্তীতে বাড়ানো হবে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা। কারণ সরকারিভাবে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি। যদি কোন সু-সংবাদ আসে তবে তা সবাই জানতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated