নেত্রকোনায় ইউপি নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে সহিংসতা, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

Share the post
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও মদন উপজেলায় পঞ্চম ধাপের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা বাড়ছে। কেন্দুয়ায় পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস পুড়িয়ে দেয়া, ভাঙচুর, হামলা, মামলা, প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধর, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদান, মোটরসাইকেলের মহড়া, নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে সভা-সমাবেশ করার ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনেই।
কেন্দুয়ায় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আর এসব ঘটনায় প্রার্থীসহ আহত হচ্ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা এমনকি সাধারণ মানুষও। কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রার্থী থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকজন প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এসব কারণে অনেক এলাকায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া  উপজেলার আশুজিয়া, দলপা, গড়াডোবা, বলাইশিমুল, নওপাড়া, কান্দিউড়া, গন্ডা, সান্দিকোনা, রোয়াইলবাড়ী, মাসকা,চিরাং, ও পাইকুড়া, মোজাফফরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রচারণা থেকে শুরু করে হামলা, প্রচারণায় বাধা দেওয়া, প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ নানা অভিযোগ করছেন একজনের বিরুদ্ধে আরেকজন। এসব অভিযোগের সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ও নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদনও করা হয়েছে। তারপরো থামছেনা সহিংসা কার্যক্রম।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারি কেন্দুয়া ও মদন উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন ৮৮ জন প্রার্থী। সংরক্ষিত আসনে ২২২ জন ও সদস্য পদে ৫৩৩ জন। নির্বাচনে ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৬৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
শনিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোজাফফরপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারহানা আফরোজ হ‍্যাপির নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর এবং পোস্টার ছিড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় নৌকা মার্কার কর্মী ও সমর্থকরা। এর আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় মোজাফফরপুর ইউনিয়নের গগডা বাজারে প্রচারণা চালানোর সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা আফরোজ হ‍্যাপির(ঘোড়া) মার্কার সমর্থকদের মারপিট করেছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা। এঘটনায় তিনি রিটানিং অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। কেন্দুয়ায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীদের মারধর, তিনি বলেন, ‘নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আপন ভাই দফাদার ও তার সমর্থকেরা আমার কর্মী সমর্থকদের আমার পক্ষে কাজ না করার ব্যাপারে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এলাকায় আমার নির্বাচনী সভার চেয়ার টেবিল পাশের পুকুরে ফেলে দিয়েছে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। দলপা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান খান পাঠান অলি (আনারস প্রতীক) উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহীন মিয়া ও তার পক্ষের সমর্থক টিটো, ইমরান হোসেন, রাজু আহমেদ, মাসুম দাইসহ ১০/১২ জন গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে নির্বাচন পরিচালনা ও প্রচার কাজে বাধা সৃষ্টি, মারপিট করে আমার সমর্থক মাসুদুজ্জামান, জাহিদ হাসান মিন্টু, আবু মুছা, শরিফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামকে আহত করেছে। এছাড়া আমার সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর ও শহিদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার মটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বিকেলে আমার প্রচার গাড়ীর চালককে বেধড়ক মারপিট করে একটি মাইক সেট, দুইটি হর্ণ, ২টি ব্যাটারী ও মাইক সেটের ভেতর থাকা একটি মেমোরী কার্ড নিয়ে গেছে শাহীন মিয়ার সমর্থকরা।
২৯ ডিসেম্বর রাতে বলাইশিমুল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কর্মী সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান  আলী আকবর তালুকদার মল্লিকের চশমা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে। মল্লিক তালুকদার ২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। চিরাং ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর কর্মীরা শনিবার রাতে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আনারস প্রতীকের কর্মীদের মারপিট করে আহত করেছে। আশুজিয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকেই আমাদের এলাকার পরিবেশ বদলে গেছে। প্রায়ই চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে মারামারি লেগে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমরা সাধারণ ভোটাররা বেশ চিন্তিত। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছি। সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের কাছ থেকেও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয়েছে। আমরা আশা করছি নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে দল থেকে সদ‍্য বহিস্কৃত কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মোজাফফরপুর ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা এন এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।কি অপরাধে দল থেকে  এই প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চাইলে তারা এই প্রতিনিধির কথা এরিয়ে যান। কেউ কোনো উত্তর না দিয়েই এই প্রতিনিধির ফোন কেটে দেন।
গোপন সূত্রে যানা যায়, ব‍্যক্তিগত রেষারেষির কারনেই ইউপি নির্বাচনকে ইসু করে এই প্রবীণ নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated