নান্দনিক সৌন্দর্যের মধ্যেও বড় দুঃখ আসকার দীঘি বড় বড় নালা ভরা আবর্জনায়

Share the post

চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে নান্দনিক ও স্বাস্থ্যকর ওয়ার্ড জামালখান। এক বর্গকিলোমিটারের এই ওয়ার্ডটি প্রাকৃতিকভাবে এখন সৌন্দর্যের প্রতিভূ হয়ে উঠেছে। ৩২ হাজার ভোটার ও দেড় লক্ষ লোকের বসবাসের এই ওয়ার্ড এখন নগরবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে ভিড় জমে তরুণ তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়েসী নারী-পুরুষের। এলাকায় বসবাসরত অনেকের সাথে গত দুইদিনে জামালখান ওয়ার্ড নিয়ে কথা হলে তাদের মতে জামালখান ওয়ার্ড এখন ‘তাক লাগানো’ একটি ওয়ার্ড। আধুনিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য-সংস্কৃতির আধার হয়ে উঠেছে বলে জানান এই ওয়ার্ডের বাসিন্দররা।
অতীতের ‘ হেলদি ওয়ার্ড ’ এখন সৌন্দর্যের সবচেয়ে নান্দনিক স্থাপত্য শৈলী ও নান্দনিক ওয়ার্ডে পরিণত হয়েছে।

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ওয়ার্ডের ভোটাররা এরই মধ্যে শুরু করেছেন তাদের বিগত দিনের প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার হিসেব-নিকেশ। সম্ভাব্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ভোটারদের মধ্যে বেড়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনাও। ২১ নং জামালখান ওয়ার্ড থেকে ৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী(পুরুষ) নির্বাচনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। অপরদিকে ২১ নং, ১৪ নং ও ১৫ নং ওয়ার্ড মিলে সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে ৫জন কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা জানিয়েছেন। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ ওয়ার্ডের এতো সৌন্দর্য ও রূপ বৈচিত্র্য এবং উন্নয়নের মাঝেও এলাকাবাসীর মনে বড় একটি দুঃখ জমে আছে দীর্ঘদিন ধরে। আর সেটি হলো- শতবছরের ঐতিহ্যবাহী আসকার দীঘি। এক সময়ের স্বচ্ছ জলরাশির বিশাল দীঘিটি এ অঞ্চলের মানুষের মনের প্রশান্তি দূর করতো। সকালে স্নান করতো। বিকালে দীঘির পাড়ে বসে মনের ক্লান্তি দূর করতো। কিন্তু সেই দীঘি আজ প্রধানতম দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীঘির চারিদিক অবৈধ বস্তি গ্রাস করেছে। এই আসকার দীঘি সৌন্দর্যমন্ডিত জামালখানের মলিন বদনে পরিণত হয়েছে। ময়লা আবর্জনায় পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। পরিণত হয়েছে মশা প্রজনন কেন্দ্রে । এ দিঘী এখন আর কেউ ব্যবহার করতে পারে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির মাসুদসহ অনেকে। তারা দীঘিটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল সরেজমিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এ ওয়ার্ডের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে ওয়ার্ডের বড় বড় নালা ও খালগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বেড়েছে মশার উৎপাতও। গত কয়েক বছর ধরে বড় নালা ও খালগুলো থেকে মাটি উত্তোলন করা হয়নি বলে জানান মোমিন রোডের রাশেদ ও হেমসেন লেনের শিমুল। জামালখান থেকে রহমতগঞ্জ হয়ে যাওয়া বড় নালাগুলো পলিথিন ও ময়লায় ভরপুর।
ওয়ার্ডের অবস্থানঃ সিটি কর্পোরেশনের মধ্য অংশে জামালখান ওয়ার্ড। এর পূর্বে দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড, উত্তরে চকবাজার ওয়ার্ড ও বাগমনিরাম ওয়ার্ড, পশ্চিম-দক্ষিণে এনায়েত বাজার ওয়ার্ড এবং পূর্ব-দক্ষিণে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের অবস্থান।
সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ঃ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রাক-প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নানা ভাবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালখান ওয়ার্ড থেকে বর্তমান কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনসহ ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অপর ৫ জন হলেন-সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এম.এ. নাসের, জামালখান ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মো. আইয়ুব, সাবেক কাউন্সিলর প্রকৌশলী বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ। এ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে নানা সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী রিন্টু। আছেন চট্টগ্রাম জজকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী সুচিত্রা গুহ টুম্পা। তিনি ২১নং জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রামের সদস্য এবং আজীবন সদস্য গোল পাহাড় মহাশ্মশান কালী বাড়ি ও চট্টগ্রাম কলেজ এ্যালামনাই এসোসিয়েশন।
মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ঃ ২১ নম্বর জামালখান, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড ও ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড নিয়ে একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোয়ারা বেগম মনিসহ ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বি করার খবর পাওয়া গেছে। অপর ৪জন হলেন- ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শিউলী দে শিমু, জামাল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাফরিন সুলতানা পম্পি, জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা শাহানা আরা বেগম ও জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক নবুয়াত আরা সিদ্দিকা রকি।
গত ৫ বছরে জামালখান ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র দেখে মনে হয়েছে-জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন স্বপ্ন দেখেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একের পর এক উদ্যোগ নেন এবং বলার অপেক্ষা রাখে না, তাতে সফলকাম না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকেন।
গত নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার আগে তাঁর সেই উক্তি, ‘বাংলাদেশ দেখবে জামালখান’ শুনে যারা মুখ টিপে হেসেছিল, আজ তারাও সুমনের গুণমুগ্ধ বলে জানান তিনি। গত ৫ বছরে এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন আজাদীকে জানান, এলাকায় ফুটপাত, ড্রেনেজ ও রাস্তার উন্নয়নে ২০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়ন হয়েছে।
কখন সিটি কর্পোরেশন থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে, সেই আশায় বসে না থেকে এলাকার মানুষের প্রতি , চট্টগ্রামবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একের পর এক সৃষ্টিশীল কাজ করে যাচ্ছেন।
শৈবাল দাশ সুমন বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরীতে পরিণত করার লক্ষে সিটি মেয়র ‘ক্লীন ও গ্রীণ সিটি’র ডাক দিয়েছেন। এটি তার একার স্লোগান নয়, এটি নগরবাসীর স্লোগান।
এ স্লোগানকে শুধু কথায় আটকে না রেখে কাজে পরিণত করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর সর্বশেষ সংযোজন টেম্পার গ্লাসের উপর সেন্ড ব্লাস্ট দিয়ে তৈরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যূরাল। কাউন্সিলর সুমন বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ তাদের সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানাতেই মেয়র সাহেবের পরামর্শে এবং দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের সহযোগিতায় আমরা একের পর এক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছি। বঙ্গবন্ধুর এ ম্যূরালটি ২০ এমএম টেম্পার গ্লাসের উপর ৩০ ফিট/ ৮ ফিটের সেন্ড ব্লাস্ট দিয়ে তৈরি। এটি তৈরি করেছেন শিল্পী প্রণব সরকার। তিনি ইতোপূর্বে টেরাকোটায় এ বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন। আগামীতে এখানে একটি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্র গড়ে তুলবো, যেখানে জামালখান ওয়ার্ডের সকল মুক্তিযোদ্ধার ব্রোঞ্জের মূর্তি থাকবে।
‘সবুজে সাজবে নগরী, নান্দনিকতায় সমৃদ্ধ হবে জামাল খান’ – এ স্লোগানকে পাথেয় করে কাউন্সিলর সুমনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বদলে গেছে জামাল খান। তার প্রথম প্রয়াস ছিল ডা. এম এ হাসেম চত্বরে দৃষ্টি নন্দন ফোয়ারা। এ মোড়ের গাছ ও ফলক অক্ষত রেখেই গোলচত্বরটি একেবারে নতুনভাবে সেজেছে। সর্বশেষ জামালখান মোড়ের পিডিবি অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনের ফুটপাতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘অ্যাকুরিয়াম পার্ক’। এখানে স্থাপন করা হয়েছে দেশের প্রথম স্ট্রিট অ্যাকুরিয়াম। ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ পার্কে রয়েছে পৃথক তিনটি অ্যাকুরিয়াম।
গতকাল আজাদীর সাথে আলাপচারিতায় কাউন্সিলর সুমন জানালেন, জামাল খান চত্বরে ফোয়ারাটি ছিল নান্দনিকতার সূচনা মাত্র। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে আমি এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে ‘ হেলদি সিটি’ নামটা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা আমরা কাজে পরিণত করবো। সাথে একটু একটু করে পুরো এলাকার পরিবর্তন ঘটাবো, যেখানে প্রকৃতি আর সংস্কৃতির মিলন ঘটবে। তিনি বলেন, জামালখানকে বদলে দিতে অর্থের পুরোটাই আমি সংগ্রহ করছি বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজ থেকে। সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নিচ্ছি মাত্র। কর্পোরেট হাউজগুলোও আমার ডাকে সাড়া দিয়েছে, সাথে মাননীয় মেয়র ও এলাকাবাসীর উৎসাহ তো আছেই।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক আজাদীর পৃষ্ঠপোষকতায় জামালখানের খাস্তগীর স্কুলের সীমানা প্রাচীরে টেরাকোটায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তর ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পুরো ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।টেরাকোটায় বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরার কারণ উল্লেখ করে কাউন্সিলর সুমন বলেন, শিশু-কিশোর ও তরুণরা সহজে ইতিহাস জানতে পারবে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে, এমন ধারণা থেকেই আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক ও পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেকের আন্তরিক সহযোগিতায় এ ঐতিহাসিক নিদর্শন সৃষ্টি করা হয়েছে।
‘বরেণ্য বাঙালি’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুসহ ২০ জন শ্রেষ্ঠ বাঙালির ছবি ও বাণী সম্বলিত টাইলস ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে সেন্ট মেরীস স্কুলের দেয়ালে। এছাড়াও এজি চার্চ থেকে পিডিবি কোয়ার্টার পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুটের গার্ডেনিং হয়েছে। চত্বরটির পশ্চিম দিকে তৈরি করা হয়েছে ২০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতার আধুনিক ছাউনী। এতে এলইডি টিভি, বুকস্টল, টি-স্টল, ওয়াই-ফাই সিস্টেম, এটিএম বুথ, পুরুষ-মহিলার পৃথক পাবলিক টয়লেট সুবিধা রাখা হয়েছে। ফুটপাতে কোন রেলিং দেয়া হয় নি। রেলিংয়ের পরিবর্তে ৩০০ ফুট এলাকা জুড়ে ১৫ ফুট পর পর ফুলের ঝুড়ি বসানো হয়েছে। পিডিবি কলোনি এলাকায় নালার উপর স্ল্যাব বসিয়ে বাগান করা হয়েছে।
একটা সময় যে সড়কের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধে নাকে রুমাল চেপে যেতে হতো, আজ সেখানে ফুলের বাগান। জামাল খান কুসুম কুমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে এলাকাটি এখন ঝকঝকে। সেখানে লাগানো হয়েছে বাহারি ফুলের গাছ। একইভাবে হেমসেন লেনের ব্যাংক কলোনির মোড় রূপ নিয়েছিলো ডাস্টবিনে। ডাস্টবিনে ভরা সেই জায়গাটিতে শোভা পাচ্ছে সবুজ ফুলের গাছ। নানা ফুল গাছে সাজানো হয়েছে চেরাগী মোড় থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত সড়কের মাঝখানের আইল্যান্ড।
প্রচলিত আছে সুফি সাধক বদরশাহ প্রথম চেরাগ জ্বালিয়েছিলেন এ চেরাগী মোড়ে। বদর পীরের স্মৃতিবিজড়িত জায়গাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি স্মৃতি স্মারক। রঙিন বাতির আলোয় সাজানো স্মারকের দেয়ালে লাগানো হয়েছে নানা ধরনের ফুলের গাছ। ভরে গেছে সবুজে। কাজির দেউড়ি থেকে লাভলেইন আইল্যান্ডে ঋতু বৈচিত্রের দৃষ্টি কাড়ে টাইলস ম্যুরালের অপূর্ব বিন্যাস ‘ষড়ঋতুর স্বদেশ’। তাতে দেখা মিলেছে গ্রীষ্মের কৃঞ্চচূড়া, স্বর্ণালু, কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া, কাঁঠাল, তেমনি বর্ষার বৃষ্টিভেজা কদমফুল, গ্রাম্য বালিকার শাপলা সংগ্রহ, বৃষ্টিস্নাত গ্রাম্য বালকের মাছ ধরা। কাজির দেউড়ি থেকে লাভলেইন আইল্যান্ডে বারটি স্ট্রাকচারের উভয় দিকে চব্বিশটি প্যানেলে ছয়টি ঋতুর প্রত্যেকটির চারটি করে মোট চব্বিশটি ম্যূরাল করা হয়েছে।
কাউন্সিলর সুমন বলেন, এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ক্যামেরার মনিটর বসানো হয়েছে আমার অফিসে- যাতে আমি তদারকি করতে পারি। এতে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কাজ কমে এসেছে।
কৃষ্ণকুমারি স্কুলে ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন বসানো হয়েছে। যেখানে প্রতিটি ছাত্রী তাদের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট মেরীস স্কুল, চিটাগাং আইডিয়াল স্কুল, ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, বরেণ্য মনীষিদের ছবি এবং ম্যূরাল করা হয়েছে। করা হয়েছে সবুজায়ন।
আবার নির্বাচন আসছে। অনেকেই নির্বাচন করবেন। এলাকার ভোটারা যদি মনে করেন আমি যোগ্য-তাহলে আবার আমাকে নির্বাচিত করবেন আমি এটাই প্রত্যাশা করি।
সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এম.এ. নাসের এবারও কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। এ ওয়ার্ডের উন্নয়নে তার অতীতের ভূমিকা এখনো সকলেই মনে রেখেছেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি অতি প্রিয় একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে আছেন এম.এ. নাসের। নগরীর লিচু বাগান এলাকায় তার নিবাস। তার আমলে এই ওয়ার্ডের মানুষ যেভাবে নাগরিক সেবা পেয়েছেন তা আজো মনে রেখেছেন বলে জানান স্থানীয় ভোটার মুনির ও সাইফুল।
এদিকে জামালখান ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মোঃ আইয়ুব নির্বাচনে প্রস্তুতি নিয়ে গত ২/৩ বছর ধরে এলাকার যুব সমাজসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। কাজ করছেন এলাকার তৃণমূল মানুষের জন্যও। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে গতকাল আজাদীকে তিনি জানান, ছোটকাল থেকে এই জামালখানেই আমার বেড়ে ওঠা। এখানেই আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় রাজনীতি,সমাজ-সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছি। অতীতে অনেক সময় এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার উদ্যোগ নিলেও সহযোদ্ধাদের ভালোবেসে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। এ এলাকার মানুষ বার বার আমাকে নির্বাচন করার জন্য বলেছেন। কারণ এ এলাকায় আমার চেয়ে বেশি শ্রম আর কেউ দেয়নি। তাই এবার কাউন্সিলর নির্বাচন করতে চাই দল থেকে। এ জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছি।
ফুটপাতে মাছের বাজার এবং ভ্যান গাড়ির পণ্য বিক্রি, নিচে কারসহ অন্যান্য গাড়ি পার্কিং করে সবাই বাজার করে। ফলে মানুষের চলাচলের পথ নেই জামালখানে। আমি নির্বাচিত হলে ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করে মানুষের চলাচলের জন্য নির্বিঘ্ন করে দেবো।
সাবেক কাউন্সিলর প্রকৌশলী বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ আজাদীকে জানান, জামালখান এক সময় সবচেয়ে স্বাস্থ্য সম্মত ওয়ার্ড ছিল। আমি যখন কাউন্সিলর ছিলাম তখন জামালখানের কোথাও পানি উঠতো না। প্রতি বছর বড় বড় নালা এবং খালগুলো থেকে মাটি উত্তোলন করেছিলাম। ফলে দ্রুত পানি নেমে যেতো। এখন নালা ভরাট হয়ে পানি উঠছে। নালা-নর্দমাগুলো মশার কারখানায় পরিণত হয়েছে। নির্মল বাতাস আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত জামালখান খান এখন ধুলোবালি আর মাছ বাজারের দুর্গন্ধময় ওয়ার্ডে পরিণত হয়েছে। আমি আবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে নালা-নর্দমাগুলো পরিস্কার করে ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখবো। ফুটপাতগুলোকে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী-তাদের অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য নির্বিঘ্ন রাখবো। ফুটপাত থেকে মাছ বাজার অপসারণ করবো। ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করবো।
এ ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে নানা সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী রিন্টু। তিনি আজাদীকে জানান, আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হবো। ইতোমধ্যে এলাকার প্রতিটি অলিতে গলিতে আমি সাধারণ মানুষের সাথে মিশেছি। তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। গত কয়েক বছর ধরে জামালখান ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকা ভিত্তিক আমি গরীব জনগনের জন্য ফ্রি চিকিৎসা সেবার আয়োজন করেছি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে ফ্রি ওষুধ দিয়ে আসছি। গরীব ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সামগ্রী সহ নানা ভাবে সহযোগিতা করে আসছি। আমার জন্ম এবং স্থায়ী বসবাস এই জামালখান ওয়ার্ডেই। তাই এলাকার প্রতি আমার আন্তরিকতা ও অনেক বেশি। আজীবন এ এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই।
জামালখান ওয়ার্ড থেকে এবার সরাসরি নির্বাচন করতে চান আইনজীবী ও জামালখান ওর্য়াড আওয়ামীলীগের সদস্য সুচিত্রা গুহ টুম্পা। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি আজাদীকে জানান, আমি এ এলাকার একজন সচেতন নারী হিসেবে সরাসরি সাধারণ ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমি দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির পাশাপাশি নানা সামাজিক,সাংস্কৃতি ও ধর্মীয় কর্মকান্ডে মানুষের সাথে কাজ করে আসছি। আগামীতে সরাসারি নির্বাচিত হয়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই ওয়ার্ডের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।
২১ নম্বর জামালখান, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড ও ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড নিয়ে একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোয়ারা বেগম মনিসহ ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বি করার খবর পাওয়া গেছে। অপর ৪জন হলেন ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী শিউলী দে শিমু, জামাল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাফরিন সুলতানা পম্পি, জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা শাহানা আরা বেগম ও জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক নবুয়াত আরা সিদ্দিকা রকি।
বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ তার পরিকল্পনা নিয়ে আজাদীকে জানান, সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। আমার ওয়ার্ডেও উন্নয়নের ব্যাপক ছোঁয়া লেগেছে। তবে উন্নয়ন হলেও সবচেয়ে যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে সেটা হলো মাদকের সমস্যা, বিশেষ করে ইয়াবা সেবন।
মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা গলির মোড়ে মোড়ে ভিড় করে। এই বয়সের ছেলেগুলো ক্রাইমে চলে যাচ্ছে। আমার ওয়ার্ডে মাদক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে।
আমার আগামী পরিকল্পনা এলাকার এলাকার বেকার নারী ও যুব সমস্যা দূর করার জন্য বিভিন্ন টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ দেয়া। নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। মেয়েরা এখনো অনেক অবহেলিত। তাদের শিক্ষা-বিনোদন এবং ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পে উদ্বুদ্ধ করা। মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, গত তিন মেয়াদে এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এখনো অনেক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। অনেক সমস্যার সমাধান করেছি। এরমধ্যে পানির সদস্যা ছিল সবচেয়ে বড়। সেটা নিসরসন হয়েছে।
সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ও জামালখান ওয়ার্ড যুবলীগ নেত্রী শিউলি দে শিমু দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমি ছাত্রলীগের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সাথে যুক্ত। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গঠনে আমি ভূমিকা রাখতে আগামী নির্বাচনে লালখান বাজার, বাগমনিরাম, জামালখান সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চাই। নির্বাচিত হয়ে নারীদের কর্মসংস্থান ও নারীবান্ধব ওয়ার্ড গঠনে ভূমিকা রাখতে চাই। অপর কাউন্সিলর প্রার্থী জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাফরিন সুলতানা পম্পি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি সেই উন্নয়নের অংশীদার। আগামী নির্বাচনে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হয়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সেই উন্নয়নের সাথী হতে চাই। আমি তিন ওয়ার্ডে নারীদের কল্যাণে আরো ব্যাপক কাজ করতে চাই।
অপর প্রার্থী সৈয়দা শাহানা আরা বেগম দৈনিক আজাদীকে বলেন, ২০১৫ সালের নির্বাচনে আমি অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলাম। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার ব্রত। এ লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করছি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।
সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচন করতে চান জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নবুয়াত আরা সিদ্দিকা রকি। নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated