চবিতে গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন : সাত দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

Share the post

ওয়াহিদা নাসরিন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়): চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) গাছ কাটা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে সামনে ‘গাছ কাটা বন্ধ কর , প্রান প্রকৃতি রক্ষা কর’ এই স্লোগানে সাত দফা দাবি নিয়ে মানব বন্ধন করেন তারা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দেওয়ান তাহমিদের সঞ্চালনায় মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, চবি বন ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রিটু রায়, দর্শন বিভাগের সোহেল রানা, একই বিভাগের কানন, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিক উদ্দিন ওয়াসি ও জহির সব্য সাচী। বক্তারা বলেন, ‘দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ বনভূমি রয়েছে চট্টগ্রামে। আর এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গাছ-গাছালি ও পাহাড়ের ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের ভরপুর। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত তিন- চার বছর ধরে ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গাছের পাশাপাশি পাহাড়ও কাটা হচ্ছে। অবিলম্বে যদি গাছ কাটা বন্ধ না হয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে এই ক্যাম্পাসে। তাই ক্যাম্পাসে গাছ কাটায় জড়িত শ্রমিকদের নয়, তাদেরকে দিয়ে যারা গাছ কাটিয়ে নিচ্ছে ওই চক্রের বিরোদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে আহবান জানাচ্ছি।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আগামী পাঁচ বছরে বনভূমি শুণ্য হবে। তাই বিগত কয়েক বছরগুলোতে যারা গাছ কেটেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে জরিমানা নিয়ে যে সংখ্যাক বৃক্ষনিধন করা হয়েছে, তার চেয়ে তিনগুণ বৃক্ষরোপন করতে হবে। এবং শিক্ষার্থীদের কাছে দিনে বা রাতে কোনো গাছবাহী গাড়ি দেখলে ওই গাড়ি আটকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করেন।’ এরপরে তারা মিছিল নিয়ে প্রসাশিনক ভবনের দিকে যান। এবং গাছ কাটা বন্ধ করা, গাছ ও পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন, গাছ কেটে ক্যাম্পাসে না রাখা ও গাছবাহী কোনো গাড়ী ক্যাম্পসে চলতে না দেওয়াসহ্ সাত দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন । উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান। উল্লেখ্য, গাছ ও পাহাড় কাটার কারনে গতকাল বুধবার চবি কর্তৃপক্ষকে শোকজ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ৯ মার্চ পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার সরেজমিনে এসে ক্যাম্পাসের বায়োলজিকাল সায়েন্স এলাকার পেছনে বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদন ছাড়া গাছ, পাহাড় ও টিলা কাটার প্রমাণ পায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated