অলস বসে আছে শতাধিক ট্রাক অপ্রতুল চাহিদা, চালক সংকট বিআরটিসির চট্টগ্রাম ডিপো

Share the post

অপ্রতুল চাহিদা, চালক সংকট বিআরটিসির চট্টগ্রাম ডিপো

চট্টগ্রাম বিআরটিসি ট্রাক ডিপোতে অলস বসে আছে শতাধিক ট্রাক। কোটি কোটি টাকায় কেনা নতুন এসব ট্রাক ব্যবহার না হওয়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বাড়ছে অবচয়জনিত ক্ষতির পরিমাণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপ্রতুল চাহিদার পাশাপাশি চালক সংকটের কারণে এসব ট্রাক অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। বাজার সম্প্রসারণ না করে এসব ট্রাক কেনাকে অপরিকল্পিত বিনিয়োগ মনে করছেন অনেকে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে পণ্যবাহী ৫শ ট্রাক ক্রয় করে বিআরটিসি। এর মধ্যে আইসার ব্রান্ডের ১৭ টন পণ্য বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন ৩৫০টি এবং টাটা ব্রান্ডের ১১ টন পণ্য বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন ১৫০টি ট্রাক। এসব ট্রাকের ২৭৬টি দেয়া হয় চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোতে। প্রত্যেকটি ট্রাকের মূল্য ১৮ থেকে ২৮ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম ডিপোতে বর্তমানে ৩০৫টি ট্রাক রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি পুরনো। বিআরটিসির এসব ট্রাক সারা দেশে সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বহন করে থাকে। বেশিরভাগ ব্যবহার করা হয় খাদ্য ও সার পরিবহনের কাজে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বায়েজিদে ট্রাক ডিপোতে অনেক ট্রাক বেশ কয়েক মাস ধরে অলস বসে আছে। এসব ট্রাকে মরিচা ধরছে। এখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বালুছড়া বাস ডিপোতেও বেশ কয়েকটি ট্রাক অলস বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিআরটিসি ট্রাক ডিপোর কয়েকজন চালক বলেন, যতগুলো ট্রাক আছে ততজন চালক নেই। মূলত চালক সংকটের কারণে ট্রাকগুলো চালানো হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক বলেন, যেকোনো যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত ফেলে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। ট্রাকগুলোও বসিয়ে রাখার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে টায়ারগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, সরকারি ক্রয়ের আগে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) করার নিয়ম রয়েছে। কারণ যেকোনো পণ্য কিংবা সেবা ক্রয়ের আগে তার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা যাচাই করা প্রয়োজন। এসব ট্রাক চললে লাভজনক হবে কিনা? জনকল্যাণে কতটুকু ব্যবহৃত হবে? মূলত লাভের চেয়ে জনকল্যাণই প্রধান বিষয়। সেটা বিবেচনা না করেই এসব কেনা হয়। এসব ক্রয়ের মধ্যে আখের গোছানোর একটি বিষয় থাকে। সরকারের উপর মহল থেকে মৌন সম্মতি পেলে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হয়। বিআরটিসির ট্রাক কেনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
বিআরটিসির ডিজিএম (পিএন্ডএস) মনিরুজ্জামান বাবু সোমবার সন্ধ্যায় দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামে বেশিরভাগ ট্রাকই নতুন। বর্তমানে তিনশর অধিক ট্রাক রয়েছে। কিছু ট্রাক সার ও খাদ্য পরিবহনের জন্য নির্ধারিত করা আছে। কয়েকটি কারখানা বন্ধ থাকার কারণে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় ট্রাকগুলো সিডিউল পাচ্ছে না। তাই বসিয়ে রাখতে হয়েছে। ৩০ শতাংশ ট্রাক চালক সংকটের কারণে বসা। ৭০ শতাংশ ট্রাক সচল রয়েছে।
চালক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন কেনা ট্রাকগুলো চালানোর জন্য কোনো অস্থায়ী চালক দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া ট্রাক অনুপাতে স্থায়ী চালকের সংকট রয়েছে। নতুন ট্রাকগুলো ক্যাজুয়াল চালক দিয়ে চালানো হচ্ছে না। এখন নতুন ট্রাকগুলো চালানোর জন্য বাস ডিপোর স্থায়ী চালকদের দৈনিক ভিত্তিতে নেয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে বিআরটিসি চট্টগ্রাম বাস ডিপোর ম্যানেজার এম জেড রহমান আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বাস ডিপোতে অপেক্ষমাণ ট্রাকগুলো এসেছে মাস দেড়েক হচ্ছে। ট্রাকগুলো দিয়ে কাভার্ডভ্যান বানানো হবে। বিআরটিএসহ বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে ট্রাকগুলো বসা রয়েছে। কাভার্ডভ্যান তৈরিতেও মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে। তবে এসব আমাদের নয়, ট্রাক ডিপোর নিয়ন্ত্রণে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Releated